Diganta Kobipakho

বাংলায় দেখো বাংলায় জানো

Ayurved Tipsbenefits of eating triphala

ত্রিফলা খাওয়ার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা | There are some important benefits of eating triphala

|| ত্রিফলা খাওয়ার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা ||

       ত্রিফলা যেটা এমন তিনটে জাদুর মত ঔষধি জিনিস দিয়ে বানানো হয়েছে যা আপনার পেটের পক্ষে অত্যন্ত লাভকারী। ত্রিফলা যে তিনটি জিনিস দিয়ে তৈরি হয় সেগুলো হলো হরিতকী, বয়রা এবং আমলকি। এই তিনটে জিনিস মিশিয়ে যে মিশ্রণ বা গুঁড়ো তৈরি হয়, তাকেই ত্রিফলা বলা হয়। বড় বড় আয়ুর্বেদিক কোম্পানি ত্রিফলা নামের পণ্য বাজারে বিক্রি করে। কিন্তু একটা কথা মনে রাখবেন, ত্রিফলা কেনার সময় কোম্পানির বিষয়ে ভালো করে জেনে নিন যে সেটা সত্যি ত্রিফলা কিনা। আপনি ত্রিফলা বাড়িতেও বানাতে পারেন। শুধু এই তিনটি জিনিসকে এনে ভালোভাবে গুঁড়ো করে নিন এবং সেটাকে কোনো কিছুতে চেলে নিন। ত্রিফলাকে প্রকৃতির একটা বিশেষ উপহার মনে করা হয়। ত্রিফলা সমস্ত রকম রোগ-কে বিনাশ করে দেয়। কারণ ত্রিফলা আপনার পাচনতন্ত্র-কে মজবুত করে দেয়, আর পাচনতন্ত্র মজবুত হলে আপনার শরীরে কোনো রোগ-ই হবে না।

আমাদের শরীরে ত্রিফলার উপকারিতা :-

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা :- শরীরের ইমিউন সিস্টেম বা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা মজবুত করতে ত্রিফলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যেসব মানুষের ইমিউন সিস্টেম কম তাদের ত্রিফলা খাওয়া উচিত। যার ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যায় এবং ছোটখাটো রোগ থেকে বাঁচায়। আর যদি কোনো রোগ হয়ও, তাহলে খুব তাড়াতাড়ি সেরে যায় এবং আপনি সুস্থ থাকবেন।ত্রিফলা শরীরে অ্যান্টিবডি-এর উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। যা শরীরে অ্যান্টিজেনের বিরুদ্ধে লড়াই করে আর শরীরকে ব্যাকটেরিয়া মুক্ত রাখে।

পেটের রোগের জন্য উপকারী :- ত্রিফলার এই তিনটে জরিবুটি শরীরের ভিতর পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। ত্রিফলার গুঁড়োকে গোমূত্রের সাথে খেলে পেটে ব্যথা, প্লীহা বৃদ্ধি ইত্যাদি অনেক পেটের রোগ দূর করতে সাহায্য করে।

কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি :- যদি কারোর কোষ্টকাঠিন্য-এর সমস্যা থাকে তাহলে ত্রিফলা খাওয়া শুরু করে দিন। কেবল এক চামচ ত্রিফলা সকালে এবং সন্ধ্যায় খাওয়ার পর খেতে থাকুন। যদি দুই বেলা খেলে কোনো সমস্যা হয় তাহলে একবারই সন্ধ্যাবেলা খান। রাতে শোয়ার সময় এক চামচ ত্রিফলার গুঁড়ো এক গ্লাস গরম দুধ বা গরম জলের সাথে খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য-এর সমস্যা একদম দূর হয়ে যায়। আর যদি ত্রিফলার মধ্যে দু’চামচ ইসবগুলের ভুসি মিশিয়ে হালকা গরম জলের সাথে যদি খাওয়া যায়, তাহলে যত পুরনোই কোষ্ঠকাঠিন্য হোক না কেন, সব সেরে যাবে।

হিমোগ্লোবিন বৃদ্ধি করা :- যদি কেউ অ্যানিমিয়া রোগে আক্রান্ত হয় তাহলে তাকে অবশ্যই ত্রিফলা খাওয়া উচিত, এটা আপনার জন্য অত্যন্ত উপকারী হতে পারে। এটা রক্ত তৈরি প্রক্রিয়াকে বৃদ্ধি করে। যদি আপনি নিয়মিত ত্রিফলা খাওয়া শুরু করেন, তাহলে লাল রক্তে যে কোষ আপনার শরীরে থাকে সেটাকে বাড়িয়ে দেয়। যার ফলে হিমোগ্লোবিন বৃদ্ধি পেতে থাকে।

দৃষ্টিশক্তি বাড়ায় :- ত্রিফলা খেলে চোখের জ্যোতি আশ্চর্যজনকভাবে বৃদ্ধি হতে থাকে। এর জন্য আপনি রাতে এক গ্লাস জলে এক চামচ ত্রিফলা ভিজিয়ে রাখুন এবং সকালে উঠে জলটাকে ছেঁকে ভালো ভাবে চোখ ধুয়ে ফেলুন। এরকম করতে থাকলে আপনার চোখের জ্যোতি বাড়বে। এছাড়া সকালে জলের মধ্যে ত্রিফলার গুঁড়ো ভিজিয়ে রেখে দিন এবং সন্ধ্যাবেলা সেটা ছেঁকে খেয়ে নিন। সন্ধ্যাবেলা এই গুঁড়োর মধ্যে জল মিশিয়ে রেখে সকালে উঠে খেয়ে নিন। তাহলে আপনার চোখের যত সমস্যা আছে সব দূর হয়ে যাবে।

      তাহলে এগুলো ছিল ত্রিফলা খাওয়ার কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা। যেগুলো আপনি পুরো বিশ্বাসের সাথে প্রয়োগ করতে পারে।

এরকম আরো অন্যান্য আয়ুর্বেদিক টিপস সম্পর্কে জানতে এই লিংকে ক্লিক করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *